"মহানবীর "কথা ,কাজ ও মৌন সম্মতিকে হাদিস বলে।।অর্থাৎ তিনি নিজে যা করেছেন এবং তার উম্মত দের করতে বলেছেন তাই হাদিস। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু বাক্য আছে যে গুলো হাদিস না হলেও এগুলো কে হাদিস বলে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বয়ান করা হয় । এর কারনে সাধারন মানুষ না বুঝে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে।
আর তাই আজ আমরা আমাদের দেশে কিছু বহুল প্রচলিত জাল হাদিস নিয়ে আলোচনা করব।।
১। প্রথমেই বলব রমজান সম্পর্কে একটি হাদিসের বিষয়ে সেটি হল- বলা হয় রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি রমজানের খবর কোন মানুষের নিকট প্রথম পৌঁছে দিবে আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন ।এটি সম্পূর্ণ একটি জাল হাদিস ।অথচ আমরা না জেনে ফেসবুকে কত শেয়ার করে ফেলি। যার জন্য কিন্তু আমরা গোনাহগার হচ্ছি মিথ্যা প্রচারের জন্য।
২। আবার বলা হয় আল্লাহ পাকের ৭০ হাজার নূরের পর্দা আছে অর্থাৎ ৭ আসমানের উপর ৭০ হাজার নূরের পর্দা আছে তার উপরে আল্লাহর আরস স্থাপন করেছেন এটি একটি পরিপূর্ণ জাল হাদিস।। পর্দার বিষয়ে সহি হাদিস আছে কিন্তু তাতে সংখ্যার কোন উল্লেখ নেই।
৩।আরেকটি জাল হাদিস খুবই প্রচলিত তা হল যে নিজেকে চিনল সে তার রব কে চিনল। এই কথাটি ৩য় হিজরি সতকের একজন সুফি বক্তা ইয়াহিয়া ইবনে মুয়াজ আল রাজি ।তিনি অয়াজ করতে গেলে নিজের থেকেই এই কথাটি বলতেন। তার পর তার শ্রোতারা এটি কে হাদিস বানিয়ে ফেলেছেন।
৪। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ মানুষ কে তার মায়ের নামে ডাকবেন। দুনিয়ায় পরিচয় বাবার নামে আর কিয়ামতের দিন হবে মায়ের নামে । মায়ের নামে ডাকার কারন হিসেবে বলা হয় বাবার নামে ডাকলে ঈসা (আঃ)এর বাবা পাওয়া যাবে না তাই তার সম্মানার্থে মায়ের নামে ডাকা হবে। এটি সম্পূর্ণ একটি জাল হাদিস।। অথচ এই ব্যাপারে সহি হাদিস আছে যেখানে রাসুল (সাঃ) স্পষ্ট বলেছেন কিয়ামতের দিন মানুষ কে তার বাবার নামে ডাকা হবে।।
৫। নবী রাসুল দের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪ ।নবী রাসুলদের সংখ্যা সম্পর্কে কোন সহি হাদিস নেই। এক মাত্র আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন তিনি তার বান্দা দের কাছে কত জন নবী রাসুল প্রেরন করেছেন ।। তাই নবী রাসুল দের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার মতান্তরে ২ লক্ষ ২৪এটি একটি জাল হাদিস ।।
অথচ আমাদের পাঠ্য বই গুলো তে এই জাল হাদিস টি ব্যাপক ভাবে ব্যবহিত হচ্ছে । যা অতি দ্রুত অপসারন করা উচিত।।


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আমাদের পোস্ট পড়ার জন্য । আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানিয়ে ফলো করে আমাদের পাশে থাকুন।