আল্লাহ তায়ালা আমাদের এতো নিয়ামত দিয়েছেন যে পৃথিবীর সকল মানুষ একত্রিত হয়ে সেগুলো গুনে গুনে শেষ করতে পারবে না। মানুষের নিজের অস্তিত্বই স্বয়ং একটি ক্ষুদ্র জগৎ। চোখ, কান, নাক, হাত-পা, দেহের প্রতিটি গ্রন্থি ও শিরা-উপ শিরায় আল্লাহ তায়ালার অন্তহীন নিয়ামত লুকিয়ে রয়েছে। আসমান-জমিন ও এর মাজে বিদ্যমান সকল কিছুই আল্লাহর নিয়ামত।
সাধারণত আমরা যেগুলোকে নিয়ামত মনে করি নিয়ামত সেগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমরা যে প্রতিনয়ত ভিবিন্ন বিপদ আপদ দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকাও আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত।আল্লাহ মানুষকে যে নিয়ামত দান করেছেন তা সীমাহীন।
এমন অনেক নিয়ামতও রয়েছে যে গুলো সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণাই নেই। কত লক্ষ-কোটি নিয়ামত আমাদের ওপর রয়েছে তা গুনে শেষ করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যদি আল্লাহর নিয়ামত গুনতে চাও, তাহলে তা গুনে শেষ করতে পারবে না।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত :৩৪)
মহান আল্লাহর সেই সব অগণিত নিয়ামতের মধ্যে একটি নিয়ামত হচ্ছে " দুধ" । প্রাচীনকাল থেকেই দুধ মানুষের অতি প্রিয় পানীয়। দুধকে বলা হয় পৃথিবীর অমৃত। দুধ রোগ প্রতিরোধের শক্তি বাড়িয়ে দিয়ে মানুষের শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। মূল কথা, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দুধের ভূমিকা অপরিসীম।দুধে বিদ্যমান রয়েছে সমস্ত পুষ্টি গুন্।
দুধ মহান রবের এমন এক নিয়ামত, যার উপমা বের করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এর মধ্যে মানব জাতির শিক্ষা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই গবাদি পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে আমি তোমাদের পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৬৬)
এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়াসিন ও রিবোফ্লভিন।
দুধ খেলে যে সকল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়-
১.অ্যাসিডিটির সমস্যা
২। পিরিয়ডের সময় তীব্র যন্ত্রণা।
৩। কাজের স্ট্রেসে অস্থির অবস্থা—এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এক গ্লাস দুধ।
৪। দুধে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল ফিটনেস বাড়ায় এবং মানসিক চাপ দূর করতে
সহায়তা করে।
মায়ের বুকের দুধের উপকারিতা :-
সন্তান জন্মানোর সাথে সাথে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোটা মায়ের জন্যও উপকারী। সন্তানকে দুধ খাওয়ালে মা নিজেও উপকৃত হন। প্রসবজনিত রক্তপাত দ্রুত বন্ধ হয়। পরবর্তী সময়ে রক্তস্বল্পতা হয় না। গর্ভজনিত স্ফীত জরায়ু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
যেসব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের স্তন, জরায়ু ও ডিম্বকোষে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।বুকের দুধ খাওয়ালে মা ও বাচ্চা উভয়ের উপকার হয়।
হাজার হাজার বছর আগে থেকে ই মানুষ দুধ ব্যবহার করে আসছে। তখন মানুষ গরু , ছাগল ,ভেড়ার দুধ পান করত।


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আমাদের পোস্ট পড়ার জন্য । আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানিয়ে ফলো করে আমাদের পাশে থাকুন।